মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এবং আরও আনা হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোশারফ হোসেনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমরা পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে হারিয়েছি। আমরা সবার পাশে আছি। যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।”
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, “আমাদের মিশনগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আমরা আশা করি, দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হবে এবং কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে আজারবাইজান হয়ে দেশে ফেরানো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও প্রবাসীকে দেশে আনা হবে।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার প্রবাসীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নিহত মোশারফ হোসেনের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তার সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ পুনরায় বিদেশে যেতে চাইলে সরকার সহযোগিতা করবে।
মন্ত্রী বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে আনার খরচ বহন করা হচ্ছে। এছাড়া নিহতের পরিবারকে সাড়ে তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যাদের বিএমইটি কার্ড রয়েছে তারা অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা পাবেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে আল-তোয়াইক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোশারফ হোসেন নিহত হন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে মোশারফ হোসেনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
নিহত মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মো. সুরজত আলীর ছেলে।
আরএন