ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, ডেইলি অবজারভারের জেলা প্রতিনিধি। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম এখলাস (৫৫) একই ইউনিয়নের বরুনাগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী ও পুলিশের তথ্যমতে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি স-মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বুধবার কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত সাইফুল ও তার ছেলে রাকিব দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অতর্কিত হামলা চালায়। সে সময় লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় সাংবাদিক আসাদকে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তার চিৎকারে ভাই আকতারুজ্জামান এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও ৮০ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, হামলাকারীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং জমিতে কাজ করতে হলে চাঁদা দেওয়ার শর্ত আরোপ করে। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
আহতদের স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক আসাদের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান বলেন, 'আমার নিজ জমিতে অন্যায় ভাবে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজি করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।'
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুব হোসেন তুহিন বলেন, 'দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর একই স্থানে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
এএস/এমএ