রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত এবং দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, যাত্রীবাহী ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানোর সময় পেছন থেকে ‘জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চ আকস্মিক ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই লঞ্চের চাপায় তিনজন নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ছোট নৌকা থেকে যাত্রীরা লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে। এদিকে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য নৌ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদরঘাট নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সজীব আহমেদ জানিয়েছেন, আহতদের একজন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, আমরা অনেক নিখোঁজের খবর পাচ্ছি। ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত দুইজন নিখোঁজ হয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।
এসআর