খুলনা মহানগরীর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত ‘ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ শীর্ষক নোটিশের আলোকে কেসিসি এ সভার আয়োজন করে।
সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, দেশে ই-বর্জ্য উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণা অনুযায়ী, খুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য (৭৫ টন) এবং প্রায় ১০ টন ই-বর্জ্য রয়েছে। এ হার প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া ই-বর্জ্য মাটি, পানি ও বাতাস দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমির উৎপাদন ব্যাহত করা, মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা সৃষ্টি এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় ই-বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ, বিলবোর্ডে প্রচারণা, কেসিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম জোরদার এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পণ্যের অপচয় কমাতে প্রতিটি পণ্য সর্বোচ্চ সময় ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সলুয়ায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্টে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, খুলনা মহানগরীকে একটি ঝুঁকিমুক্ত শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রীণ ও কীন এবং হেলদি সিটি বিনির্মাণের প্রথম ধাপই হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা। কাজেই একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে। বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলকে পরিকল্পনার আওতায় এনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো: মুজিবুর রহমান, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান ও শেখ মো: মাসুদ করিম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান ও মো: অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারী সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এসএমএস/এসআর