মোংলা-খুলনা মহাসড়কে একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টায় মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়, বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌবাহিনীর বাসকে খুলনার কয়রা থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে আসা একটি মাইক্রোবাস সরাসরি আঘাত করে। এসময় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মাইক্রোবাসে থাকা একই পরিবারের ২ শিশুসহ ৭ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ জানান, প্রথমে তারা একই পরিবারের ৭ জনের লাশ পান। এর মধ্যে তিনজন নারী, দুইজন এক বছরের কম বয়সী শিশু, একজন ১৩ বছর বয়সী শিশু এবং দুইজন পুরুষ রয়েছেন। পুরুষদের মধ্যে একজন মাইক্রোবাস চালক ও পরিবারপ্রধান আবদুর রাজ্জাক। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাইক্রোবাসে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্য এবং ছেলে সাব্বিরের নতুন স্ত্রীর পরিবার ও গাড়িচালক।
জানা যায়, আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বউ আনতে বুধবার পরিবারের সবাই খুলনার কয়রা উপজেলায় যান। সেখানে রাত্রীযাপন শেষে মঙ্গলবার রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ের কার্যক্রম শেষ করে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজ্জাকের শ্যালক নিসারুল ইসলাম জানান, তার বোনের পাশাপাশি পাঁচজন ভাগিনা ও তাদের দুইজন স্ত্রী, ভাগিনাদের তিনজন নাতি-নাতনী এবং দুলাভাই আবদুর রাজ্জাক সবাই বউ আনতে খুলনায় যান। এখন পর্যন্ত কেউ বেঁচে আছেন কিনা জানা যায়নি। এদিকে পরিবারের সবার মৃত্যুর খবরে নিহত রাজ্জাকের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
জেইউ/আরএন