দেশের ব্যস্ততম নৌরুট রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পার হতে আসা ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিসির পোশাক পরিহিত অবস্থায় ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর কাজে নিয়োজিত কিছু ব্যক্তি এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, ছোট গাড়িগুলো এমনিতেই পার হলেও বড় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরিতে উঠতে গেলেই প্রতি ট্রাক থেকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এসব গাড়িকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে চালকরা বাধ্য হয়েই তাদের চাহিদা মেটাচ্ছেন।
এ সময় দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকার চালক মন্টু মিয়া জানান, তিনি ফরিদপুর থেকে পণ্য বোঝাই করে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন। তার গাড়ি থেকে ২০০ টাকা নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসির লোকজন। তিনি বলেন, তারা নিয়মিতই এভাবে টাকা নেয়। এই টাকা সারেংসহ অন্যান্য স্টাফদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এছাড়া প্রতিটি বড় গাড়ি থেকে ২০০ টাকা এবং ছোট গাড়ি থেকে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা নেওয়া হয়। তাছাড়া ফেরি থেকে নামার সময়ও আলাদা বকশিশ দিতে হয়।
খুলনা থেকে আসা চালক রমজান আলী বলেন, তিনি এই নৌরুটে নিয়মিত চলাচল করেন। অতিরিক্ত পণ্যের জন্য কাউন্টারে আলাদা টাকা দিতে হয়। আবার এখানে যারা গাড়ি ফেরিতে তোলেন তাদেরও আলাদা টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, “আমরা এখানে অনেকটা অসহায়।” তাছাড়া ফেরি থেকে নামার সময় আলাদা করে ১০ থেকে ২০ টাকা বকশিশ দিতে হয়।
এ সময় টাকা নেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআইডব্লিউটিসির একজন এসে জানান, গাড়িটিতে অতিরিক্ত পণ্য থাকায় ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কারণ রো-রো ফেরির জন্য সারারাত অপেক্ষা করতে হতো। তাই ছোট ফেরিতে তুলে দিয়ে ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাটের লস্কর হুমায়ুন কবির ১০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে প্রতিদিন যদি ৬০০ থেকে ৭০০ গাড়ি চলাচল করে এবং প্রতিটি থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হয়, তাহলে দৈনিক প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা ওঠে। অন্যদিকে বড় গাড়ি থেকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হলে ১০০ গাড়ি থেকেই প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায় করা সম্ভব। এভাবে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিআইডব্লিউটিসির পোশাক পরে গাড়ি থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ কারও বিরুদ্ধে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (মেরিন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কেউ যদি বাড়তি কোনো টাকা নিয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ স্বেচ্ছায় ১০ টাকা বকশিশ দিলে সেটি আলাদা বিষয়।”
এসআই/আরএন