Monday | 1 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 1 June 2026 | Epaper
BREAKING: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট-শপিংমল বন্ধের নির্দেশ      প্রবীণ আ.লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ      ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ      ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের      মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী      বাজেটের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এক ধরনের ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমির      

জঙ্গল সলিমপুর অভিযান: আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ১০৫)

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এমন কিছু এলাকা, যেগুলো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর তেমনই একটি এলাকার নাম হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছিল। পাহাড়ঘেরা দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বসতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি—এই সবকিছুর সম্মিলনে জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সীমিত, কিন্তু অপরাধী চক্রের প্রভাব ছিল প্রবল।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিযানটি বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি সাফল্য।

অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক—

১. চট্টগ্রামে অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছিল। পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি, অনিয়ন্ত্রিত বসতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকাটি ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” ছিল মূলত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অপরাধপ্রবণ কাঠামো ভেঙে দেওয়ার একটি সমন্বিত উদ্যোগ।

২. অভিযানে র‍্যাব কর্মকর্তার আত্মত্যাগ: সম্প্রতি অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের বাস্তবতাকেই প্রমাণ করে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জীবনকেও বাজি রাখতে হয়। সেই অর্থে এই কর্মকর্তার আত্মত্যাগ দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি বেদনাদায়ক কিন্তু গৌরবময় অধ্যায়।

৩. সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় তারা কার্যত একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কাঠামো গড়ে তোলে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ নানা ধরনের ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

৪. অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুর: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিতি পায়। পাহাড়ি পরিবেশ এবং অবৈধ বসতির বিস্তৃতি অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

৫. সরকারের অভিযানে জনমনে আস্থার পুনর্জাগরণ: অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর পরিচালনার মাধ্যমে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে, রাষ্ট্র কোনো এলাকাকে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেবে না। এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিন পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি অনেকের কাছে নিরাপত্তার নতুন অনুভূতি তৈরি করেছে।

৬. উল্লেখযোগ্য অস্ত্র উদ্ধার না হলেও অপরাধের অবকাঠামো ধ্বংস: অভিযানের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার না হওয়ায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে এই অভিযানের প্রকৃত সাফল্য লুকিয়ে আছে অপরাধীদের ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংস করার মধ্যে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধী নেটওয়ার্কের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা হয়েছে।

৭. নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন: অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা। এর ফলে এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক সময় দেখা যায়, অভিযান শেষে বাহিনী সরে গেলে অপরাধীরা আবার ফিরে আসে; কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

৮. বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল: অভিযানের পর বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় জনগণও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করছেন। তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে।

৯. দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন: শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে হলে পরিকল্পিত বসতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। অপরাধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলা না করলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে।

১০. রাষ্ট্রের উপস্থিতি ও জনগণের সহযোগিতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে আগ্রহী হন, তাহলে অপরাধ দমন অনেক সহজ হয়। অপারেশন জঙ্গল সলিমপুরের মাধ্যমে যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতা এটাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা শুধু অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে পারলে জঙ্গল সলিমপুর শুধু একটি অভিযানের গল্প হয়ে থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সফল উদাহরণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

আরএন




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close