বরগুনার আমতলীতে পরিত্যক্ত থাকা খালাসি ভবন (ঘর) যেন এখন ঝোঁপঝাঁড়ের রাজত্ব। সন্ধ্যা গড়ালে মাদকসেবিদের আড্ডা আর রাত গভীর হলে কুকুর-শিয়ালের আড্ডা খানায় পরিণত হয়েছে।রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলোর ইট, বালু, রড চুরিও হয়ে যাচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, খালাসি না থাকলেও সরকারি ভবনের কোনো মালামাল কেউ নিতে পারবে না।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি কাজে পানি ব্যবস্থাপনায় এক সময় খালাসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় ৭০ বছর আগে পাকিস্তান শাসনামলে স্লুইজ গেটের দেখাশোনা করার জন্য একেকটি স্লুইজ গেটের জন্য একেক জন খালাসি (পরিচালক) রাখা হতো। জোয়ার-ভাটার সময় এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে গেট পরিচালনা করা হতো। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানি আটকে রাখা ছিল তাদের নিয়মিত দায়িত্ব। এখন স্লুইজ গেট থাকলেও নেই খালাসি (পরিচালক)।
জনবল কমিয়ে নিতে নিতে কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যায় খালাসির পদও। থেকে যায় খালাসি ভবন। প্রায় ৪০ বছর ধরে খালাসি না থাকায় অসুবিধায় পড়তে হয় কৃষক ও জেলেদের অন্যদিকে খালাসি ভবনটিও হয়ে উঠে পরিত্যক্ত। মাদকসেবী ও কুকুর-শিয়ালের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এ পরিত্যক্ত ভবনগুলো। আমতলীতে ১২টি পরিত্যক্ত খালাসি ভবন রয়েছে তার মধ্যে সবগুলোতেই জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায়। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলোর অনেক অংশের ইট, বালু, রড চুরিও হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, 'পরিত্যক্ত ভবন হলেও সরকারি মালামাল কারো নেয়ার সুযোগ নেই। নিয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
এসকে/এমএ