ভোলার চরফ্যাশন বাস মালিক সমিতির ডিপো থেকে বাস সরিয়ে দেওয়া, বাজারের মধ্যে চলাচলে বাধা, কাউন্টার ভাঙচুর ও চালক-হেলপারকে মারধরের বিচারের দাবিতে সোমবার বাস শ্রমিকদের ডাকা অবরোধ প্রায় চার ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বিকেল ৫টা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সড়কে বাস রেখে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারী বাস শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন বাজারের যানজট কমানোর জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মাসিক সমন্বয় সভায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি অটোরিকশা বাজারের বাইরে নির্ধারিত স্থান থেকে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত হয়। চরফ্যাশনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন জানান, সিদ্ধান্ত অমান্য করে বাজারের ভেতরের ডিপোতে বাস রাখায় সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন সেখান থেকে বাসগুলো সরিয়ে নতুন টার্মিনালে পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে ভোলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান অভিযোগ করেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে সিএনজি শ্রমিকরা চরফ্যাশন টিবি স্কুলের সামনে একটি বাস থামিয়ে চালক ও হেলপারকে মারধর করে। এরপর শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও বিচার দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় ভোলা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালের সামনে গাড়ি আড়াআড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর থেকে দূরপাল্লার বাস ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাস মালিক সমিতির ডিপো কর্মকর্তা অসীম দত্ত জানান, চরফ্যাশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাদের নিজস্ব ডিপো থেকে বাস বের করে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাউন্টার ভাঙচুর করা হয়।
অন্যদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাস্তার ওপর রাখা গাড়ি সরিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
তবে সিএনজি অটোরিকশা ও হালকা যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান জানান, সিএনজি চালকরা বাস চলাচলে কোনো বাধা দেয়নি। স্থানীয় প্রশাসন বাজার থেকে বাস সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ভোলা শহর ও যানবাহন শাখার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল গণি জানান, পুলিশ রাস্তা থেকে বাস সরিয়ে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করেছে। বন্ধ থাকা সিএনজি ও বাস চলাচল নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাস মালিক সমিতির ভোলা ডিপো কর্মকর্তা অসীম দত্ত জানান, বিকেল ৫টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মঙ্গলবার বাস মালিক-শ্রমিক ও সিএনজি শ্রমিকদের বৈঠকের আশ্বাসে তারা বাস চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এসএফ/আরএন