মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের মধ্যে মিনু বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রসহ হারুন খা, আব্দুল মান্নান খা ও মহসিন মিয়াকে আটক করেছে। এ সময় মান্নান খার ঘর থেকে একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মান্নান খা ও তার চাচা হারুন খা গ্রুপের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে কাদিরের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মান্নান খার লোকজন মিজানুর রহমানকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে মিজানুর রহমান বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে, তারাবির নামাজের পর রাতের দিকে মান্নান খা, হারুন খা, আমিন খাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও হামলা চালালে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মিজানুর রহমান, মিনু বেগম, জয়তন বেগম, কাজল বেগম, ইভা, বন্যা, নুপুর বেগম, আয়ান, ফাহিমা, দোলন, আলামিন, খোরশেখ খা, মোস্তাকিম ও ইদ্রিস খাঁ, সাফি বেগম। গুরুতর আহত মিনু বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছেন। আহত মিজানুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে নজরদারি বাড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। একটি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।'
এইচআই/এমএ