পঞ্চগড় জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া কারাবন্দী এক আওয়ামী লীগ নেতার জামিন পাওয়ার পরপরই মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত আওয়ামী লীগ নেতার নাম হারুন অর রশিদ (৫১)। তিনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য, দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পঞ্চগড় জেলা কৃষক লীগের সদস্য ছিলেন।
জানা যায়, গত বছরের ১৬ অক্টোবর একটি এনআই অ্যাক্ট (চেক ডিজঅনার) মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে হারুন অর রশিদ কারাগারে যান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুটি রাজনৈতিক মামলা থাকলেও সেগুলোতে তিনি পূর্বেই জামিন পেয়েছিলেন।
পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার আখেরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে হারুন অর রশিদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে দিনাজপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধানে তাকে সেখানে পাঠানো হয় এবং তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জামিন পান। তবে জামিনের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
হারুন অর রশিদের একমাত্র ছেলে রাইয়ান সারোয়ার জয় বলেন, ‘বুধবার ভোরে পঞ্চগড় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সকাল ১১টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি জানায়। পরে তাদের পরামর্শে আমরা আদালতে জামিনের আবেদন করি। একইদিনে জামিন হলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয় বৃহস্পতিবার।’
তিনি আরও বলেন, বুধবার পঞ্চগড় হাসপাতালে বাবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। তখন তিনি মোটামুটি ভালো ছিলেন। একইদিন বাবাকে দিনাজপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে এক পুলিশ সদস্যের ফোনে বাবার সঙ্গে কথা হয়। পথে তারা দিনাজপুরের দশমাইলে দুপুরের খাবারও খেয়েছিলেন। পরে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার হার্ট ব্লক হয়েছিল।
রাইয়ান সারোয়ার জয় আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অনলাইনে জামিনের আদেশ দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ডেপুটি জেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাকে মুক্তি দেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই বিকেল চারটার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসকরা আমাদের জানান, বাবা আর বেঁচে নেই।
পরে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটায় তার লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। শুক্রবার দুপুর বারোটায় নিজ বাড়িতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।
এইচআর/আরএন