কক্সবাজারের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পের আগুনের ঘটনায় মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর।
রবিবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস.এম সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন।
তিনি জানান, গ্যাম পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমকে একমাত্র আসামি করে দায়ের করা মামলাটি বিস্ফোরক আইন-১৮৮৪ এর বিধি ৫ এর ৩(ক), ৩ (খ) এবং তরলীকৃত, পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪ এর বিধি ১১১ ধারা বাজার তৎসহ পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৩০৪ ধারা রুজু হয়েছে। এ ব্যাপারে আসামিকে গ্রেপ্তার সহ আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্যাস পাম্প করার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইন্সেন নেন নি মালিক এন আলম। যা বিস্ফোরণ আইন অপরাধ।
এজাহারে একজন নিহত সহ ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।
বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪ টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধ সহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধিন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।
আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো: শাহিদুল আলম। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এর মধ্যে রবিবার দুপুর আড়াই টার দিকে অগ্নিকান্ডে দ্বগ্ধ আবু তাহের ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগে চিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন।
আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।
আবু তাহেরের মরদেহ এখনও কক্সবাজার পৌঁছেনি। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানান, আগুনে দ্বগ্ধ একজন ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত হয়েছে। মরদেহ কক্সবাজারে আসার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএইচএসইউ/এসআর