নীলফামারীর জলঢাকায় মাহে রমজান উপলক্ষে দেওয়া টিসিবির পণ্যে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স আল মদিনা স্টোরের ডিলারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আশেদুল হক ও তার বাবা পণ্য বিতরণের সময় প্রতিটি প্যাকেটেই ওজনে কম করে প্রদান করছেন। ওই এলাকায় প্রায় ১৭০০ কার্ডধারীর মাঝে ৬০০ টাকার বিনিময়ে চাল, মসুর ডাল, চিনি ও বুট (ছোলা) বিক্রি করা হচ্ছে।
কিন্তু কার্ডধারীদের অভিযোগ, চাল, মসুর ডাল, চিনি ও বুটে (ছোলা) ওজনে ঘাটতি পাওয়া যাচ্ছে।
রোকছানা বেগম নামের এক সুবিধাভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,' এই ডিলার টিসিবি পণ্যের সয়াবিন তেল বাদে আর সব পণ্যেই ওজনে কম দিচ্ছে। আমাদের অভাবের সংসার, কিন্তু এখানেও ঠকানো হচ্ছে। এটা দেখার যেন কেউ নেই।'
নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, 'সরকার তো পণ্য ঠিকই দিচ্ছে, কিন্তু ডিলার কেন কম দেবে? আমাদের কাছ থেকে তো টাকা কম নেয় না।'
১৭০০ মানুষকে যদি এভাবে কম দেওয়া হয়, তবে বিপুল পরিমাণ পণ্য ডিলার অবৈধ ভাবে বাহিরে বিক্রি করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কার্ডধারী ওজনে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে ডিলারের পক্ষ থেকে প্রভাব খাটিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে পণ্য বিতরণের কথা থাকলেও, কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই ডিলার নিজের ইচ্ছামতো বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
এদিকে, ওজনে কম দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে ডিলার আশেদুল হক দায় স্বীকার করে দায়সারা ভাবে বলেন, 'অনেক সময় ভুলবশত ওজনে কম হতে পারে।'
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, 'টিসিবি পণ্য ওজনে কম দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
এইচএস/এমএ