নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে থানার ওসির উপস্থিতিতেই হাট ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার পর শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাট-বাজার ইজারার দরপত্র উন্মুক্তের তারিখ নির্ধারিত ছিল। উপজেলার চন্দ্রপুর তুলাধোনা হাটের ইজারার দরপত্র সংগ্রহ করেন ওবায়দুল ইসলাম তপু ও যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা। দরপত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ওবায়দুল ইসলাম ইজারা লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারা লাভের পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা প্রকাশ্যে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুজ্জামান সরকার দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় হালকা গোলাপি গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক (পরবর্তীতে যিনি রাকিবুর রহমান রাজা হিসেবে শনাক্ত হন) ইজারাদার ওবায়দুল ইসলামের দিকে তেড়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে মাটিতে শুইয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওসি উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি একটি ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হচ্ছিল। সভা শেষে প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু সাংবাদিকদের জানান, “আমি ও রাজা দুজনেই চন্দ্রপুর তুলাধোনা হাটের দরপত্র দাখিল করি। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আমি ইজারা পাই। এরপরই তিনি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।”
তবে অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তুলাধোনা বাজারের একটি চায়ের দোকানে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, এটি চাঁদা নয়; বরং এক বছর আগে দেওয়া ধারকৃত টাকা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর জেলা যুবদল তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। তিনি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুজ্জামান সরকার জানান, ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপুর দায়ের করা চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতির মামলায় রাকিবুর রহমান রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাট-বাজার ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এমএ/এসআর