শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, গলাচিপা-দশমিনায় যদি আমি এমপি হতে না পারতাম, অনেকেই এলাকায় থাকতে পারতেন না। ঘরে ঘরে আগুন জ্বলত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দোকানপাটে ভাঙচুর হতো, অনেককে হাসপাতালে থাকতে হতো। কিন্তু আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পর এই এলাকার পরিবেশ আগে যেমন ছিল, তার চেয়েও ভালো হতে শুরু করেছে। আগামীতে আরও ভালো হবে। আমি বিভাজনের রাজনীতি চাই না; ঐক্য ও সম্প্রীতির রাজনীতি চাই।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় এসে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন মাঠে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও গণ-ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করিনি, আর করবও না। আমাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া শুরু হয়েছে, ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই; আমরা ঐক্যের রাজনীতি, সম্প্রীতির রাজনীতি ও উন্নয়নের রাজনীতি করতে চাই।’
তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া ও অনুন্নত গলাচিপা-দশমিনার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে চাই। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে এই জনপদের মানুষের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। বিশেষ করে চলাচলের ক্ষেত্রে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, স্কুল-কলেজে যেখানে শিক্ষক নেই বা ভবন নেই, সেসব সমস্যা সমাধান করা এবং হাসপাতালে সেবা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, আমখোলা তরমুজ ঘাট ও হরিদেবপুর এলাকায় উন্মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদা বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়া না যায়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টার পূর্বেই তাঁর অফিসে চলে গেছেন। এটি একদিনের লোক দেখানো বা মিডিয়ায় সংবাদ হওয়ার জন্য নয়; প্রতিদিনই তিনি সকাল ৯টার আগে সচিবালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। দিনের শুরু দেখলেই বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। তেমনি সরকারের শুরু দেখেই বোঝা যায় সরকারের কর্মকাণ্ড কেমন হবে। আমরা যদি সকালেই অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করি—সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা—তাহলে মানুষ সহজেই তাদের সমস্যার সমাধান পাবে এবং অফিস-আদালতে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত হবে।
গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি আবু নাঈম ও এনিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নুরুল হক নুরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার নুর, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শিপলু খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, সদস্যসচিব মো. জাকির মুন্সী প্রমুখ।
এমপি/আরএন