নারায়ণগঞ্জে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত জুন্নুন রহমান খান (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় অপহরণচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইনায়া শেখ নামে চক্রের আরেক সদস্য কৌশলে পালিয়ে যায়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চরধলেরশ্বরী এলাকার একটি নির্জন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১।
এ ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীর মা লিউজা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে গ্রেপ্তার পাঁচজনসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া জুন্নুন রহমান খান ঢাকা মহানগরীর লালবাগ থানার আজিমপুর হোমটেক টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান খানের ছেলে। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, Tan Tan অ্যাপের মাধ্যমে জুন্নুন খানের সঙ্গে পলাতক আসামি ইনায়া শেখের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইনায়া শেখ ফোন করে জুন্নুন খানকে বন্দর ১ নম্বর খেয়াঘাটে আসতে বলেন। সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে অপহরণচক্রের সদস্যরা তাকে রিকশাযোগে মদনগঞ্জ শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে যায় এবং পরে পাশের ভুট্টাক্ষেতে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
সেখানে শিক্ষার্থীকে মারধর করে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, ম্যানিব্যাগে থাকা ৬ হাজার টাকা, একটি ঘড়ি ও একটি লেদারের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বড় ভাই ইফফতুর রহমান খানের কাছে ফোন করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশ/সেন্ডমানির মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়।
ঘটনাটি জানার পর র্যাব-১১ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং অপহরণচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আকাশ (২৪), সিয়াম (২২), ফয়সাল (২৮), সঞ্জয় শীল (২০) ও বায়েজিদ (২৩)। তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে র্যাব।
এসএস/এসআর