জাতীয় বাজেটে সুন্দরবন সুরক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি এ বন রক্ষায় একটি পৃথক ও কার্যকর নীতিমালা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, কোনোভাবেই সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপন করা যাবে না। বনপ্রাণীর প্রজননকালে বন ও নদীপথে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। এসব দাবিকে সামনে রেখে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক ঢাল। এর সুরক্ষা মানেই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অস্তিত্ব রক্ষা। যুগ যুগ ধরে এই ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলকে প্রলয়ংকরী ঝড় ও সুপার সাইক্লোনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করে আসছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন বাংলাদেশের ‘অক্সিজেন ভাণ্ডার’ বা ফুসফুস হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তারা আরও বলেন, লাখ লাখ মানুষ সুন্দরবনের মাছ, মধু, গোলপাতাসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। সুন্দরবনের নদী-খাল দেশের মাছের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে। পাশাপাশি সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারও এ বন থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঝড়-ঘূর্ণিঝড়, ভৌগোলিক অবস্থান ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এই বন রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতা জোরদার করা জরুরি।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনায় জনউদ্যোগ খুলনা সিভিল সোসাইটির কার্যালয়ে ‘সুন্দরবন সুরক্ষা: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ খুলনার আহ্বায়ক ও শিক্ষক নেতা মানস রায়। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সুজন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, খুলনা সিভিল সোসাইটির আহ্বায়ক এস এম শাহনাওয়াজ আলী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক দেবদাস মণ্ডল, পরিবেশকর্মী আব্দুল্লাহ-আর-বাহরাম, মফিদুল ইসলাম এবং আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সরদার আবু তাহের প্রমুখ।
এসএমএস/এসআর