প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যেই এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ছেলে অপহরণের খবর শুনে সচিবালয়ের কর্মচারী বাবা কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান। সেখানে সামনাসামনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয় তার। বিষয়টি শুনেই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে দ্রুত ছেলেটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এর এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
জানা গেছে, অপহৃত শিক্ষার্থীর নাম আফফান সাঈদ। তিনি ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা খন্দকার শামীম সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী। বিকেল ৩টার দিকে সাইকেল চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হয় আফফান। কিছু সময় পর তার ফোন থেকেই পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
একমাত্র ছেলের অপহরণের খবরে ভেঙে পড়েন বাবা শামীম। সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং পরিচিতজনদের কাছে সহায়তা চান। এ সময় তিনি দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে বের হচ্ছেন। প্রটোকল ভেঙে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটকে দেন। তবে ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে শামীমকে কাছে ডেকে নেন।
শামীমের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। নড়েচড়ে বসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। অভিযানে রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল চামেলীবাগের একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবন থেকে আফফান সাঈদকে উদ্ধার করে। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটির বাবা খন্দকার শামীম বলেন, “কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সন্তানকে এত দ্রুত ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দ্রুত দিতে বলে এবং পুলিশকে জানালে আফফানকে হত্যার হুমকি দেয়।”
রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।”
কারা অপহরণে জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় কিছু ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী এ ঘটনায় জড়িত। বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আরএন