রমজান শুরু হতেই দিনাজপুরের বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে খিরার দাম। রমজানের আগে যে খিরা প্রতি কেজি ১৬ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হতো, রমজানের প্রথম দিন থেকেই সেই খিরা পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দ্বিগুণ দাম পেয়ে খুশি স্থানীয় কৃষকরা।
সারা বছর খিরার চাহিদা থাকলেও রমজান মাসে ইফতারের সালাদের অন্যতম উপকরণ হওয়ায় এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে রমজানের শুরুতেই বাজারে খিরা ও শসার দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক রথী চন্দ্র সরকার জানান, তিনি ৪৫ শতক জমিতে খিরা আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছেন। আরও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার খিরা বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। রমজানের আগে ১৬ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করলেও রমজান শুরু হতেই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ভালো দাম পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
শুধু রথী চন্দ্র সরকার নন, শিবনগর ইউনিয়ন, আলাদিপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার চাষিরাও এ বছর খিরা চাষে লাভের মুখ দেখছেন। রমজানকে সামনে রেখে তিন ফসলি জমিতে খিরা আবাদ করে ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দামও পাচ্ছেন তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, উপজেলায় ৬০ থেকে ৭০ হেক্টর জমিতে খিরা ও শসার আবাদ হয়েছে। গত বছর রমজানে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর চাষির সংখ্যা বেড়েছে। একই জমিতে বছরে তিনবার খিরা চাষ করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের সহায়তা এবং রমজানকেন্দ্রিক চাহিদার সমন্বয়ে দিনাজপুরে খিরা চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। দ্বিগুণ দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
এইচআর/আরএন