ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
সনদ দেওয়ার নামে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫২ পিএম আপডেট: ২৪.০২.২০২৬ ৫:৩১ পিএম
X

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসকে যেন নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করেছেন অফিসের প্রধান সহকারী বা ‘বড়বাবু’ নারায়ণ চন্দ্র। সরকারি এই দপ্তরটিতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় যেন এখানে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। 

সর্বশেষ সোমবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের মেডিকেল ফিটনেস সনদ দেওয়ার নামে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়নসহ নানা উপায়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন ওই অফিসে সেবা নিতে আসা অনেকেই। 

অথচ সিভিল সার্জন বিষয়টি জেনেও রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছেন না।

​সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই সিভিল সার্জন অফিসে ভিড় করেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। চাকরির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট জমা দিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন তারা। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান অফিসের বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্র। 

অভিযোগ পাওয়া গেছে, তিনি তার নিজস্ব লোক দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘চা-মিষ্টি’ খাওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক ২০০ টাকা করে আদায় করছেন। মোট ২৩৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে এই অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। বাধ্য হয়েই তারা টাকা দিচ্ছেন। টাকা আদায়ের দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক সাহেদ প্রকাশ্যে এই টাকা তুলছেন। কোনো রশিদ ছাড়াই এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

​কালীগঞ্জ থেকে আসা নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'ফিটনেস সনদ নেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে রমজান মাসে চা-মিষ্টি খাওয়ার খরচ। আমরা প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি, বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিকদের) উপস্থিতি টের পেয়ে এখন কিছুটা বন্ধ রেখেছে।'

​টাকা আদায়কারী অফিস সহায়ক সাহেদ বলেন, 'বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্র আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সবার কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নিতে। কেউ কেউ ১০০ টাকাও দিচ্ছেন। আমি টাকা তুলে বড়বাবুর কাছে জমা দেই। এটি অপরাধ কি না তা বড়বাবুই ভালো বলতে পারবেন।'

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্রের সাথে কথা বলতে গেলে প্রথমে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে তিনি বলেন, 'আপনারা আসছেন দেখে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আপনারা ডিস্টার্ব না করলে পুরো টাকাটা তুলে আপনাদের দিকটাও দেখতাম।'

​আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিভিল সার্জনের কক্ষের ঠিক সামনের রুমেই চলছে এই ঘুষ বাণিজ্য। অথচ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম। 

তিনি বলেন, 'আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, তাই আমি ব্যবস্থা নিতে পারিনি। সরকারি কাজে টাকা বা ঘুষ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।'

এমএস/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝