ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ফকিরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বুনো ও পরিযায়ী পাখি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
X

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ধরা নিষিদ্ধ পরিযায়ী ও বিভিন্ন বুনো পাখি। সারা শীতকালজুড়ে এক শ্রেণির পাখি শিকারী এসব পাখি শিকারে তৎপর রয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বারুইডাঙার বিল, বগুড়ার বিল, কোদলার বিল, হুচলা, ডহর মৌভোগ, মুলঘর, ফলতিতা, কাকডাংগা, কলকলিয়া, কেন্দুয়া বিলসহ আশপাশের বিভিন্ন জলাশয়ে আশ্রয় নেওয়া পরিযায়ী ও বিভিন্ন বুনো পাখি শিকার বেশ কয়েকটি চক্র। এবারও শীতে খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে আসা পাখি বিভিন্ন খাল, বিল, জলাশয়ে আশ্রয় নেওয়া এসব পাখি একপ্রকার নির্বিঘ্নেই শিকার করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। শিকারের পর এসব পাখি স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যে এবং গোপনে থলের ভেতরে করে বিক্রি করছে শিকারীরা।

প্রতি জোড়া অতিথি পাখি আকার ভেদে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর দেশি পাখির জোড়া ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অতি লাভের আশায় পাখি শিকার ও বেঁচা-কেনার সাথে জড়িয়ে পড়ছে এক শ্রেণির অসাধু লোকজন। এ নেটওয়ার্কে থাকা বেশ কয়েকটি দল পরিচিত লোকের মাধ্যমে পাখি বিক্রি করে। পরিচিতজনের মাধ্যমে ফোনে অর্ডার দিলেই নির্দিষ্ট স্থানে মেলে পাখি। এলাকার এলিট শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব পাখি কিনে খান।

উপজেলার ফকিরহাট বাজার, ফলতিতা বাজার, মানসা বাজার, টাউন নওয়াপাড়া হাট, কলকলিয়াসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ অতিথি পাখির বেঁচা-কেনা হচ্ছে। এসব পাখির মধ্যে রাতচরা বক, সোনাজঙ্গ, ডুঙ্কর, খেনি, স্নাইপ বা কাদাখোঁচা, খুরুলে, জলকৌড়ি, বুনো হাঁস, সারস, কুনচুষীসহ বিভিন্ন পাখি বিক্রি হয়। এছাড়া, দেশী কানী বক, সাদা বক,  ঘুঘু ও ডাহুক পাখিও বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।

সোমবার উপজেলার ফলতিতা মৎস্য বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি এসব পাখি বাজারে বিক্রি করার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক কিশোর ১০/১২টি বন্য কানী বক বিক্রির জন্য ক্রেতাদের সাথে দরদাম করছেন। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্রেতা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

প্রশাসনের নজরদারী এড়াতে পাখি শিকারীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেন এবং স্থান পরিবর্তন করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান প্রকৃতিপ্রেমিক স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে দেশবরেণ্য পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান বলেন, 'প্রতি বছর শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গলিয়া, ভারতসহ হিমালয় সংলগ্ন নানা দেশ থেকে পরিযায়ী পাখিরা এ দেশে এসে আশ্রয় নেয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে যেকোনো পাখি ও বন্যপ্রাণি শিকার ও পালন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা করা প্রয়োজন।'

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বিভাগ কাজ করছে। সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলের সহযোগিতা চাই।'

এটি/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝