দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) অভিযানে বিপুল সংখ্যক স্লিপার (রেল লাইনের নিচে ব্যবহৃত কাঠ) উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে রোববার দুপুরে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, রেলওয়ের বিপুল সংখ্যক সরকারি কাঠ মজুদ রয়েছে এমন একটি ভিডিও গত ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পর পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলীর সহযোগীতায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টর (সিআই) হাসান শিহাবুল ইসলামের নির্দেশে পৌর শহরের ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী-পথ দপ্তরের ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় তার বাসার পাশের একটি কক্ষে রাখা মোট ৮৬ পিস বিভিন্ন সাইজের কাঠ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৪৫টি বাতা এবং ৪১টি প্রায় ১০ ফুট লম্বা কাঠ রয়েছে।
অভিযানের সময় এসব কাঠ নিজের দাবি করলেও তাৎক্ষণিক ওই রেল কর্মচারী কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় রাত পৌণে ১টার দিকে আভিযানিক দল উদ্ধারকৃত বিপুল সংখ্যক সরকারি কাঠ জব্দ করে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
তবে, রহস্যজনক কারণে আরএনবি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত রেল কর্মসচারীসহ কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পর দিন শুক্রবার রাতের আধারে পুলিশ হেফাজতে রাখা এসব কাঠ ছেড়ে দেয়।
একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত রেল কর্মচারী কয়েক বছর আগের হন্দর হিসেবে নেয়া অকেজো কাঠের মেমো দেখালে রহস্যজনক কারণে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যদিও এসব কাঠ ছিলো ভালো এবং ব্যবহার উপযোগী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুরের সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাকিব হাসান বলেন, বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিব কায়সার স্যারের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী- পথ হিলির কর্মকর্তা ভবেষ চন্দ্র রাজবংশী এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী- কার্য হিলির কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এএম/এমএ