হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারকে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার আটকের প্রতিবাদে রবিবার বেলা ২টার দিকে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাহুবলের মিরপুর এলাকায় মিছিল ও পথসভা করেন এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে তোষার চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি শামছুল আলম, এনামুল হক এনাম, সিরাজুল ইসলাম জুয়েলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকির অভিযোগে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আরেকটি সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তাকে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী দাবি করে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন দলটির কয়েকজন নেতা। এ ঘটনায় ওসিকে মোবাইল ফোনে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে—এমন একটি কলরেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি ফোনকল আমি ধরতে পারিনি। পরে অন্য নম্বর থেকে ফোন করে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বলেন, বাহুবলে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে।”
অন্যদিকে ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ওসি মহাসড়কে অবৈধ সিগারেট জব্দের নামে আত্মসাৎ, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলেও জানান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এসএমআর/এসআর