ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। উত্তেজনার মুখে তিনি ফুল না দিয়েই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় ১২ টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ১২টার দিকে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ বেদীর সামনে অবস্থান নেন রুমিন ফারহানা ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা। পুষ্পস্তবক অর্পণের আগমুহূর্তে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে এসে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি করেন রুমিন ফারহানা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
ঘটনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, “পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে সব কিছু স্পষ্ট আছে। দলের পদ ব্যবহার করে কেউ যদি এমন হিংস্রতা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় তাঁর এক আহত কর্মী আব্দুল আহাদের বিষয়টিও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এসআরএস/এসআর