রমজানের শুরুতেই পাবনার চাটমোহরে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। অনেক পণ্য চলে গেছে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। বেগুনে যেন আগুন লেগেছে, আর লেবুর দামে চোখে জল ক্রেতাদের।
রমজানে ইফতারের অন্যতম উপাদান বেগুনি। বেগুনের কেজি এখন ৯০ টাকা। একটি বেগুন ৮–১০ ফালি করে বেসন দিয়ে ভেজে বেগুনি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে প্রতিটি ৫ টাকা দরে।
শুক্রবার (দ্বিতীয় রমজান) সরেজমিনে চাটমোহর পুরাতন বাজার ও নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগি, বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা, রসুনসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম খাবার খেজুরের দামও অনেক বেড়েছে। তবে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেলসহ কিছু পণ্যের দাম এখনো বাড়েনি।
রমজানে আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চাটমোহর পুরাতন বাজারের নিয়মিত ক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক, লতিফ ও আজাদ বলেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রোজাকেন্দ্রিক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর কারসাজিতে জড়িয়ে পড়েন। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার দাবি জানান তারা।
পাইকারি বিক্রেতা মকবুল আজিজুল ও আলামিন বলেন, রমজানে অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বাজার করেন। ফলে কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে।
চাটমোহরের দুটি প্রধান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগির দাম ২০–৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় উঠেছে। সোনালি (কক) মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকা কেজি দরে, আর দেশি মুরগি ৪৮০–৫০০ টাকা কেজি।
ওই বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ বলেন, “মুরগির সরবরাহ কম। খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি।”
এদিকে খুচরা সবজি বাজারে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বেগুন ৩০–৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০–৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর কেজি ১৬০ টাকা। করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। গোল আলু প্রকারভেদে ১৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি, শসা ৮০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা কেজি। ব্রোকলি প্রতিটি ৫০ টাকা, লাউ ৫০–৬০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা হালি, সাগরকলা ও সবরি কলা ৩০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি রসুন আগে ১২০–১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দাম বেড়ে ১৩০–১৪০ টাকা কেজি হয়েছে। পিয়াজু তৈরির পেঁয়াজের দামও কেজিপ্রতি ৫–৮ টাকা বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪০–৫০ টাকা বেড়ে ২৪০–২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা কেজি দামের খেজুরও মিলছে বাজারে।
বাজার করতে আসা বালুচরের মোহাম্মদ আলী বলেন, “রোজার আগে যে সব নিত্যপণ্যের দাম ছিল ১০ টাকা, তা এখন দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। ৬০০ টাকা কেজির চিংড়ি মাছ এখন ১২০০ টাকা, শিং মাছ ৮০০ টাকা কেজি। রুই ও কাতলা মাছ প্রকারভেদে ২৫০ থেকে ৪৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নদী ও চলনবিলের আইর, গুজা, বাইন, গুচি ও মাগুর মাছ ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।”
তবে গরুর মাংস ও খাসির মাংসের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।
চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান বিদ্যুৎ জানান, “রমজানে বাজার কিছুটা ওঠানামা করে। তবে আমরা বিষয়টি মনিটর করছি।”
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান, ভোক্তা পর্যায়ে কোনো পণ্যের মূল্য বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
আরআর/আরএন