নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী হামলার শিকার হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর পরিদর্শন করেছে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়ার বুড়িরচর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এ সময় সোনাদিয়া ইউনিয়নের দীপক চন্দ্র দাস, দুর্যোধন দাস, কাকন চন্দ্র দাস এবং বুড়িরচর ইউনিয়নের মৃদুল চন্দ্র দাস প্রতিনিধি দলকে ঘটনার বর্ণনা দেন। তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে এনসিপি (শাপলা কলি)–এর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এনসিপির বিজয়ের পর হিন্দু বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে তারা অভিযোগ করেন। একইভাবে এখনো এনসিপির নেতাকর্মীরা হিন্দু জনগোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং দেশ ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরিদর্শনকালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক ও শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ বলেন, প্রায় প্রত্যেক নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুরা টার্গেটে পরিণত হন। তবে এবারের নির্বাচনে সারাদেশে বড় ধরনের ঘটনা না ঘটলেও হাতিয়ায় কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা এ ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। হাতিয়ার এসব হামলার কারণে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক, ভয় ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সরকারি পুনর্বাসন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এসব গোষ্ঠী নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা চালানোর সুযোগ পায়। নির্বাচনে কে কাকে ভোট দেবে, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে এনসিপি নিজেদের সাম্প্রদায়িক চরিত্র প্রকাশ করেছে। যা নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই কাম্য নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিপ্লব দাশ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেখতে গিয়ে যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা অকল্পনীয়। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা ভাবাই যায় না। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে নিয়ে ‘রেইনবো নেশন’ গড়তে চান—যেখানে সবাই মিলেমিশে থাকবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু এনসিপির এসব কর্মকাণ্ড জাতি হিসেবে আমাদের হতাশ ও লজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার নেতা বিপ্লব দে পার্থ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিপ্লব দাশ, সদস্য সচিব নারায়ণ মজুমদার, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্য কানুরাম দে, উষা আচার্য্য, রুপা চৌধুরী, গোপাল শর্মা, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের হাতিয়া আহ্বায়ক সহদেব দাস, নাফিজ শাহসহ অন্যরা।
পরিদর্শন শেষে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান টিমের সদস্যরা।
টিআই/আরএন