বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হলেন নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে নরসিংদী জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন বলেন, “বিগত দিনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল তার দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, “নরসিংদীবাসীর বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে। জেলার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি।”
চালাকচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার মাহমুদ হাসান ফুটন বলেন, “দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শিতার কারণে নরসিংদী জেলা উন্নয়নে পিছিয়ে ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত স্থবিরতা ছিল জেলাবাসীর আক্ষেপ। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্ত্রী হওয়ায় এই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি নরসিংদী-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম পান ৭৬ হাজার ৪৪৫ ভোট। এ নিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়নে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও একই দলের হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) নূর উদ্দিন খানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা—তার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতসহ সামগ্রিক উন্নয়নে নরসিংদী নতুন গতি পাবে।
এইচআর/আরএন