বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৪ জন। বিভাগীয় শহর হিসেবে মন্ত্রীসভায় স্থান পায়নি খুলনার কোনো সংসদ সদস্য। ফলে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিশিষ্ট নাগরিক নেতারা হতাশ হয়েছেন। তারা বলছেন— বিভাগীয় শহর ও বন্দর নগরী হিসেবে খুলনাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। খুলনা থেকে মন্ত্রী হলে অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সহজতর হতো।
জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বিভাগীয় শহর হিসেবে খুলনাকে এক নম্বরে রাখা হবে। কিন্তু আমরাসহ খুলনাবাসী হতাশ হয়েছে। খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আমরা ৪টিতে জয়লাভ করেছি। কাজেই মন্ত্রীসভায় কাউকে স্থান না দেওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি।
তবে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এতেই আমরা খুশি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, বরাবরের মতো এবারও খুলনার মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। খুলনার মানুষ আশা করেছিল, খুলনা থেকে একজন সংসদ সদস্যকে পূর্ণ মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। এটি বড় বঞ্চনার উদাহরণ।
তিনি বলেন, খুলনার শিল্প-কলকারখানা বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ নেই, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা। এ ব্যাপারে যারা মন্ত্রিসভায় কথা বলবে— সেই প্রতিনিধি থেকে খুলনাবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় খুলনার কেউ না থাকায় এ সম্ভাবনা নিয়ে আমরা সন্দিহান।
তিনি বলেন, এবারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খুলনার মানুষ আশা করেছিল, মন্ত্রীপরিষদে গিয়ে এই অবহেলিত মানুষের উন্নয়ন নিয়ে অন্তত একজন হলেও কথা বলবে। কিন্তু আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে শুধু খুলনার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সারাদেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খুলনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসাদুর রহমান বলেন, যশোরে ৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয়লাভ করেছে মাত্র একটি আসনে। একইভাবে বাগেরহাটের ৪টি আসনের মধ্যেও মাত্র একটি আসন পেয়েছে বিএনপি। এই দুই জেলা থেকে নির্বাচিত দুইজন সংসদ সদস্য— যথাক্রমে যশোরের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাগেরহাটের শেখ ফরিদুল ইসলাম— প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিভাগীয় শহর ও শিল্প-বন্দর নগরী খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে মহানগরের একটিসহ ৪টি আসনে বিএনপি জয়লাভ করলেও বিগত দিনের ন্যায় এবারও খুলনায় কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি। ফলে খুলনাবাসী আবারও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসন থেকে নির্বাচিত মরহুম সালাউদ্দিন ইউসুফ। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনের সংসদ সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান।
২০১৪ সালে গঠিত মন্ত্রিসভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খুলনা-৫ আসনের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। পরে তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়। ২০১৯ সালের সরকারে আবারও শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। ২০২৪ সালের সর্বশেষ সরকারে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নারায়ণ চন্দ্র।
এসএস/আরএন