রংপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিএনপি সমর্থকরা।
রোববার দুপুরে রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত করা হয়েছে। পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা ও রংপুর সদর থেকে আগত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান।
রংপুর-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা বলেন, “আমরা ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেছি। পুনর্গণনার পর যে রায় হবে, তা মেনে নেবো।”
তিনি দাবি করেন, ভোট গণনায় অনিয়ম হয়েছে এবং তা তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সমাধান করা উচিত।
রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহায়তায় ভোট কারচুপি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। বিভিন্ন কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিবর্তন ও ব্যালট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, “নির্বাচন সংক্রান্ত তিনজন প্রার্থী আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। দুইজনের আবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল। নির্বাচনের পর কিছু জায়গায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৪০২ ভোট। এ আসনে ৮ হাজার ২৬৩টি ভোট বাতিল হয়।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, পুনর্গণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এলওয়াই/এসআর