ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়া নিজান এক লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৪১ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে হারান। এটি লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান।
নিজান এই আসন থেকে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; এর আগে তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে জয়ী হন। সেই সময় তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
এবার তৃতীয়বার নির্বাচিত হওয়ায় নিজান এ অঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় সংসদ বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনটি মেঘনা উপকূলে অবস্থিত। নদীভাঙন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, শিক্ষায় অনগ্রসরতা, জলদস্যুতা, অনুন্নত কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে থাকা এলাকাটির উন্নয়নের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে নিজান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—হামলা-মামলামুক্ত রাখা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন বলেন, “নিজান ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও জয়ী হয়েছেন। এবারের জয়ের ব্যবধান তার জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। সততা, দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার দিক বিবেচনায় দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমরা আশা করছি।”
রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, নিজান রাজনৈতিক দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এর ফলে কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নয়, দল জনগণের অভিভাবক হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তাই ওইসব দিক বিবেচনাসহ শিল্প-বাণিজ্য এবং মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে তার অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সময় এসেছে। আর এটা হলে উপকূলীয় অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে তিনি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, আশরাফ উদ্দিন নিজান সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে দায়িত্বপালন করছেন। পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই এ অভিজ্ঞ ও সৎ নেতৃত্ব জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় দায়িত্ব পাওয়ার সময় এসেছে বলে আমি মনে করছি। আমরা আশা করবো আমাদের দলীয় প্রধান বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কমলনগর ও রামগতি উপজেলা সম্পাদক বেলাল হোসেন জুয়েল বলেন, ৪১ হাজার ভোটের ব্যবধান জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। এখন সেই আস্থাকে জাতীয় পরিসরে কাজে লাগানোর সময়।
তিনি বলেন, এদেশের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, সৎ ও সংযত নেতৃত্বের অনেক প্রয়োজন। যিনি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্খার চেয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বিশ্বাসী। এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সেই ধারারই একজন জনপ্রতিনিধি। তার অভিজ্ঞতা ও সততা জাতীয় সংসদ ও সরকারের জন্য ইতিবাচক সংযোজন হতে পারে।
বিএইচজে/ এসআর