ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পঞ্চগড়-১ আসনের ফলাফল নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন এনসিপি ও ১১-দলীয় প্রার্থী সারজিস আলম। ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি ভোট পূর্ণ গণনার দাবি জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের কাছে ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
ফল ঘোষণার সময় জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের পাশে বসেছিলেন সারজিস আলম। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান তিনি। উপস্থিত সকলে এবং সারা দেশবাসী তার এই বার্তাকে নতুন রাজনৈতিক ধারা ও অভিনব হিসেবে প্রশংসা করছিলেন।
কিন্তু রাতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, “জনগণের রায়কে আমি সম্মান করি, কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম এবং ফল পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ যাচাই না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রের ভোট পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় গণনার দাবি করছি।”
এর আগে বিএনপির প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, “আমরা একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ভাইকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। জনগণ যদি এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, সেই রায়কে সম্মান করা আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্মান দেখানো এবং তাঁর খুশির মুহূর্তে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।”
তবে অভিনন্দন জানালেও পরবর্তীতে সারজিসের এ দাবির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, ফলাফল ঘোষণার পর এবং অভিনন্দন জানানোর পর পূর্ণ গণনার দাবি তোলা জনগণ ও নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থার বার্তা দেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সারজিস আলমের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, “ফলাফল ঘোষণার সময় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট ছিলেন। কোথাও কোনো অঘটনের খবর পাইনি। সারজিস আলম নিজেই আমাদের বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারপরও এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতিতে এটি তার অপরিপক্কতার প্রমাণ।”
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে কোনো প্রার্থী লিখিতভাবে আপত্তি জানাতে এবং পুনর্গণনার আবেদন করতে পারেন। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআই/আরএন