ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনের ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা কেউ পাননি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংসদ নির্বাচনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচাই করে এই তথ্য জানা গেছে।
জামানত বাজেয়াপ্তদের মধ্যে আলোচিত প্রার্থীরা হলেন: লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের তারা প্রতীকের প্রার্থী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের লাঙলের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, হাতপাখার প্রার্থী জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি জাকির হোসেন পাটওয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১)।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলপত্র যাচাই করে জানা যায়:
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ)
৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬,৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি, ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম, ৫৯,২৬৫ ভোট পেয়েছেন।
বাকি প্রার্থীরা পেয়েছেন: জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ: ৪১৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটওয়ারী: ১১,১৫৬ ভোট, এনডিএম’র আলমগীর হোসাইন: ১০৬ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের কাউছার আলাম: ১১৫ ভোট, বাসদের বিল্লাল হোসেন: ২০৩ ভোট।
আসনে ভোটার সংখ্যা: ২,৮১,৩০২ জন, ভোটগ্রহণ করেছেন: ১,৬২,৯৬২ জন (৫৭.৯৩%)। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল সর্বনিম্ন ২০,৩৭০ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক)
৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১,৪৬,৩২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি, জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া ১,৩৩,৬৯৮ ভোট পেয়েছেন।
বাকি প্রার্থীরা পেয়েছেন: গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার: ৪২৪ ভোট, নাগরিক ঐক্যের রেজাউল করিম: ২৫৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির ইব্রাহিম মিয়া: ১,৭৮০ ভোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া: ২৮৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের হেলাল উদ্দিন: ৬,৭৭৪ ভোট।
ভোটার সংখ্যা: ৪,৯৪,০২৬, ভোটগ্রহণ: ২,৯৭,২৭০ (৬০.১৭%)। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৭,১৫৮ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর)
৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১,৩৫,৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ১,২২,৮০২ ভোট পেয়েছেন।
বাকি প্রার্থীরা পেয়েছেন: জাতীয় পার্টির একেএম মহিউদ্দিন: ১,৩৩৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহিম: ৫,০৫১ ভোট, এলডিপির মো. শামছুদ্দিন: ৪৮৮ ভোট, এনপিপির সেলিম মাহমুদ: ২৮৯ ভোট
ভোটার সংখ্যা: ৪,৪৪,৪৭৩, ভোটগ্রহণ: ২,৭২,৪৩০ (৬১.২৯%)। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৪,০৫৩ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর)
৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ১,১৫,১৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এআর হাফিজ উল্যাহ ৭৩,৭৫৬ ভোট পেয়েছেন।
বাকি প্রার্থীরা পেয়েছেন: স্বতন্ত্র আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ: ৩৯৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ: ২১,১০৩ ভোট, জেএসডির তানিয়া রব: ২২,০৪০ ভোট, স্বতন্ত্র নুরুল হুদা চৌধুরী: ৪২২ ভোট, বাসদের মিলন কৃষ্ণ মণ্ডল: ৪৪০ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের রেদোয়ান উল্লাহ: ২৫৯ ভোট, স্বতন্ত্র শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল: ৪১১ ভোট।
ভোটার সংখ্যা: ৪,১৮,১৫৮, ভোটগ্রহণ: ২,৪০,৯৬৭ (৫৭.৬৩%)। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০,১২০ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ার ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
আরএইচ/আরএন