ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাকে পরাজিত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সমর্থকেরা। শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে হাজারো কর্মী-সমর্থক সড়কে নেমে আসেন। তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে হারাগাছ এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পুরো এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেন, “এবারের নির্বাচনে আমি দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের পাশে ছিলাম। মানুষের একটাই দাবি ছিল—১৬ বছর পর তারা ভোট দিতে পেরেছে। কিন্তু তাদের রায়কে বিকৃত করা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে তিনি এগিয়ে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, “বাংলাদেশের অন্য কোথাও বিএনপি না জিতলেও এই আসনটি বিএনপির ছিল। এটি আমার কাছ থেকে নয়, কাউনিয়া-পীরগাছার মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
এ সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও হামলার অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “আমাদের কেন্দ্রে গুলি চালানো হয়েছে, কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করেছে।”
ভোট বাতিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে। আমি সকালে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি সাক্ষাৎ দেননি। পরে তাঁর একজন প্রতিনিধি বিকেল ৩টার পর আমার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। এরপরও তিনি আমার সঙ্গে দেখা করেননি বা কোনো আশ্বাস দেননি।”
তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কারচুপির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।”
এমদাদুল হক ভরসা জানান, বিষয়টি তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছেন এবং ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। “জনগণ তাদের রায় দেখতে চায়। পুনর্গণনা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে,” বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এলওয়াই/আরএন