ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বেসরকারি ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও একটিতে ১১ দলীয় জোটের শরীক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিজয়ী হয়েছে।
রংপুর-১ (গংগাচড়া ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নং ওয়ার্ডসমূহ)
মোট ১৩৯টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের মোকারম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট। হাতপাখা প্রতীকের এ টি এম গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ ভোট।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)
১৩৭টি কেন্দ্রের ফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকের আনিছুর ইসলাম মণ্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৮৯ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের মো. আশরাফ আলী পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৬ ভোট।
রংপুর-৩ (সদর উপজেলা এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নং ওয়ার্ডসমূহ)
এ আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পান। এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ৪৩ হাজার ১৮৫ ভোট পায়।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)
১৬৩টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ১১ দলীয় জোটের শরীক শাপলা কলি প্রতীকের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)
১৫২টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)
১১৪টি কেন্দ্রের ফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকের নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৬৪ ভোট। স্বল্প ব্যবধানে এ আসনে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত।
সার্বিক ফলাফলে দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলে জামায়াত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ায় দলটি এ অঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে, একটি আসনে জয় পেয়েছে এনসিপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল রংপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এলওয়াই/এমএ