সাভারের আশুলিয়ায় সামরিক বাহিনীর ট্রাকশুট পরিধান করে মাদক পাচারের সময় চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা। এসময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নবীনগর বাসষ্ট্যান্ডের উত্তরবঙ্গ পরিবহন কাউন্টারের পাবলিক টয়লেটের সামনে থেকে ওই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর নাম মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৫)। সে কক্সবাজার জেলার সদর থানার দক্ষিণ কলাতলী জমজম হ্যাচারী এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে।
সেনা গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন সামরিক বাহিনীর ট্রাকশুট পরে নিজেকে সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর ফাঁকি দিয়ে মাদক পাচারের পরিকল্পনা ছিল তার।
সূত্র জানায়, সাদ্দাম হোসেন তার সহযোগী বালুতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ইয়ার মোহাম্মদ (৩০) কে সঙ্গে নিয়ে ১ হাজার ২৫ পিস ইয়াবা গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সাভার থেকে নবীনগরের দিকে রওনা হন। তারা উত্তরবঙ্গ পরিবহন কাউন্টারে এসে গাজীপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছিল। এসময় সেখানে দায়িত্বরত সেনা গোয়েন্দা মাঠকর্মীদের সন্দেহ হলে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে ১ হাজার ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের মুহূর্তে তার সহযোগী ইয়ার মোহাম্মদ কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সেনা গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, আটক সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো কক্সবাজার থেকে ঢাকাসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। অভিযান শেষে আটক সাদ্দাম হোসেনকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, এঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের ৩৬(১) এর ১০(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক ইয়ার মোহাম্মদকে আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওএফ/এসআর