খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেছেন, অতীতে বিতর্কিত নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছিল, আসন্ন নির্বাচন তা পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ। কোনো রকম চাপ, হুমকি বা ভয়কে পাত্তা না দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
জরুরি প্রয়োজনে মাঠে থেকে সরাসরি সহায়তার আশ্বাসও তিনি প্রদান করেন। খুলনা মহানগরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যে সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবমুখর ও নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বাংলাদেশ পুলিশ এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দৃষ্টি একযোগে এখন ভোটের দিকে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেলস্টেশন ও মহাসড়কে যে বিপুল জনস্রোত দেখা যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কতটা আগ্রহী।
বুধবার সকালে নগরীর বয়রাস্থ কেএমপি পুলিশ লাইনস মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্রিফিং প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ঈদের সময় যেমন মানুষ ঘরে ফেরে, ঠিক তেমনি এবারের নির্বাচনের পূর্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজ নিজ বাড়ি ফিরছেন ভোট দেওয়ার জন্য। এটি মানুষের আস্থার প্রতিফলন যে তারা নির্বিঘ্নভাবে ভোট দিতে পারবে। জনগণের এই আস্থা ধরে রাখাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি-ওয়্যার্ন ক্যামেরার মাধ্যমে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন ও ফিন্যান্স) এবং বর্তমানে ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/আরএন