দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ ও চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে দেশের জনগণ। আমরা দুর্নীতি করব না, দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ ও চাঁদাবাজদের এ দেশের মাটিতে ঠাঁই দেব না। আমরা টেন্ডারবাজি করব না, কাউকে টেন্ডারবাজি করতে দেব না—ইনশাআল্লাহ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুর-৬ আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনসভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, আল্লাহর এই জমিনে দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ছাত্রশিবির কাফেলাকে বিগত ১৭ বছর জেল, জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেন। ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, মা-বোনেরা ইজ্জত হারিয়েছে; কিন্তু সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমানের অস্তিত্ব ছিল না। এরপর তার দল ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করেছিল। গত ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলার তরুণ, যুবক ও সর্বসাধারণের তোপের মুখে স্বৈরাচারের বিদায় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমীরে জামায়াত বলেছেন—আগামীতে জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটের রায়ে সরকার গঠন করতে পারলে দিনাজপুর-৬ আসনের প্রাণের দাবি অনুযায়ী বিরামপুরে জেলা ঘোষণা, উপজেলা ও জেলা শহরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং উত্তর অঞ্চলে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটানো হবে। আমাদের বিরোধী পক্ষ যারা আমাদের দুর্নীতির কথা বলে, তাদের বুকের পাটা থাকলে সামনে এসে প্রমাণ দিতে পারলে ছাত্রশিবির এই দায়িত্ব ছেড়ে দেবে। শুনছি কেউ কেউ ভোট চুরির চিন্তা করছেন। তাদের স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—যারা স্বৈরাচার বিদায় দিয়েছে, সেই ছাত্রশিবির ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট চুরির চেষ্টা হলে তা রুখে দিতে প্রস্তুত।
জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী লক্ষ্মণ চন্দ্র রায় বলেন, আগামী দিনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সরকার গঠন হলে আমরা হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকব। আমি দেখেছি জামায়াতের লোকজন আমাদের মন্দির পাহারা দেয়। তাদের দ্বারা আমাদের কোনো ক্ষতি হতে পারে না। তাই আগামী নির্বাচনে সবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিনাজপুর-৬ আসনের ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটের রায়ে যদি জয়লাভ করে আল্লাহ আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে বিরামপুরে জেলা ঘোষণাসহ চার উপজেলার সকল কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ করা হবে—ইনশাআল্লাহ। হিলি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করা হবে এবং হিলি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। নবাবগঞ্জে পৌরসভাসহ ভাদুড়িয়া বাজারে আধুনিক পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করা হবে—ইনশাআল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডক্টর মুহাদ্দিস এনামুল হক, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এনামুল হক, নবাবগঞ্জ নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুনতাসীর ইমন, কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান, দক্ষিণ দিনাজপুর ছাত্রশিবির সভাপতি সাজেদুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
জিএম/আরএন