ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ওএমএস’র দোকানের সামনে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
X

খুলনায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তুলনামূলক কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে ওএমএস এর দোকানের সামনে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। নিম্ন মধ্যবিত্তরাও ওই ভিড়ে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে ক্রমাগতই ক্রেতার সারি দীর্ঘ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর মানুষের ভরসা সরকারের ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম। কিন্তু শুধু নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের এলাকা কেন্দ্রিক এই কার্যক্রম গ্রাম পর্যায়ে না থাকায় গ্রামের মানুষ ছুটছেন শহরে। সেখানে ওএমএস ডিলারদের দোকানের সামনে ভিড় করছেন তারা। কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে সেখানে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে খুলনা মহানগরীর প্রায় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে।

নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের মেসার্স কনিকা এন্টারপ্রাইজের পয়েন্টে খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল নিতে আসা ৫৫ বছর বয়সী বিধবা ফিরোজা বেগম বলেন, তার বাড়ি রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। তিনি একটু সাশ্রয়ীমূল্যে ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা নিতে সেই ভোর বেলায় নদী পার হয়ে এসেছেন।

এই চাল নিতে ২৬নং ওয়ার্ডের ডিলার পয়েন্ট মেসার্স মঞ্জুয়ারা এন্টারপ্রাইজে এসেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়ার এলাকার তাসলিমা বেগম, শান্তি বালাসহ তিন শতাধিক মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায় প্রায় প্রত্যেকটি পয়েন্টে ২০০ জনের কাছে এক টন চাল এবং এক টন আটা বিক্রি করার বরাদ্দ থাকলেও প্রত্যেকটি পয়েন্টে ভোক্তা হয় চার পাঁচশত লোকেরও বেশী। এজন্যে ডিলাররা অনেক সময় সবাইকে চাল আটা দিতে পারেন না। চাল ও আটা না পেয়ে ফেরত যেতে হয়ে অনেককে। 

নগরীর খালিশপুর নিউমার্কেট বাজার এলাকার রিকশাচালক রহমতউল্লাহ (৫৩) জানান, শুধু শহরের নয়, গ্রাম থেকেও এখানে ওএমএসের চাল-আটা নিতে আসছে মানুষ। বিশেষ করে গত এক মাস থেকে নতুন নতুন মুখ আসছে। এখন গ্রাম পর্যায়েও খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি করা দরকার। 

তিনি জানান, ওএমএসে চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে কেনা যায়। দোকানে চাল ন্যূনতম ৫০/৫৫ টাকা কেজি এবং আটা ৪৫ টাকা কেজিতে কিনতে হয়। 

খুলনা মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ডের  খালিশপুর নিউমার্কেট বাজার এলাকার খাদ্য অধিদপ্তরের ডিলার  মো. রাসেল ভুলু বলেন, ‘মানুষ অনেক সকালে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা ২০০ জনকে দিতে পারি, কিন্তু মানুষ আসে তিন শর বেশি। আমরা যতটুকু বরাদ্দ পাই, ততটুকু লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের দিয়ে দিই। 

নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের ডিলার চান মিয়া সেলিম জানান, এক মাস ধরে অনেক নতুন মুখের মানুষ আসছে। এসব লোকজন ভৈরব নদের ওপার দিঘলিয়া ও তেরোখাদা, রূপসা এলাকা থেকে আসছেন। এর আগে যারা কখনও চালের জন্য শহরে আসেনি। 

নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড এলাকার হাফিজনগরের ওএমএস ডিলার পয়েন্ট  মেসার্স সুলতানা এন্টারপ্রাইজে এসেছেন চল্লিশোর্ধ্ব শাহজাহান আলী। কাপড়ের ফেরি করেন। বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, এখন বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছেন দীর্ঘ লাইনে। এর আগে কোনোদিন দাঁড়াতে হয়নি। 

নগরীর দৌলতপুর, খানজাহানআলী, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গাসহ জনবহুল এলাকায় ওএমএস ডিলার শপের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। নারী, পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও দাঁড়াচ্ছে লাইনে।

শেখপাড়া বাজার এলাকায় ডিলার মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজে ওএমএসের চালের জন্য লাইনে দাঁড়ানো আফরোজা বলেন, ‘ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। ৯টার দিকে চাল বিক্রি শুরু হয়। পাঁচ কেজি চাল ও আটার জন্য এক-দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এর পরও কিনতে পারলে খুশি।

৩০নং ওয়ার্ডের টুটপাড়া এলাকার ডিলার মো: স্বপন জানান, ‘ক্রেতার চাপ বেশি থাকায় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। বিক্রির জন্য যে চাল ও আটা বরাদ্দ পেয়েছি, তা উপস্থিত মানুষের তুলনায় খুব কম। 

খুলনা মহানগরীর ওএমএস মনিটরিং কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আশরাফুজ্জামান জানান, খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ড এলাকায় ৩১জন ডিলারের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ডিলার প্রতি ১টন চাল ও ১টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

জানতে চাইলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: মামুনুর রশীদ বলেন, ওএমএসের পয়েন্টগুলোতে ভিড় বেড়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী চাল-আটা বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ডিলারদের। ডিলার পয়েন্টে খাদ্য বিভাগের কর্মীরাও কাজ করছেন। এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে  দায়িত্বরত কয়েকজন খাদ্য পরিদর্শককে দায়িত্ব হতে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে।

এসএমএস/এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝