ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে বাহিনীকে যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে, যার লক্ষ্য একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা। দেশের প্রতিটি জেলায় ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার ঢাকা জেলার আর্মি স্টেডিয়ামে ঢাকা মহানগর আনসারের একটি বিশাল প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সমাবেশে ঢাকা মহানগরের ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী মোট ২৭,৭০৩ জন আনসার সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে মহাপরিচালক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপস’, সমন্বিত সিকিউরিটি রেসপন্স সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সদস্য বাছাই, সার্টিফিকেশন ও ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো আধুনিক ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
মহাপরিচালক আশ্বস্ত করেন, নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালনে দৃঢ় ও অটল থাকবে।
মহাপরিচালক বলেন, “ঐতিহ্যগত সেকেলে প্রক্রিয়া ভেঙে আমরা এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় পদার্পণ করেছি। সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন থেকে শুরু করে খাবার ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এখন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। এর ফলে বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো অনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিজ বিবেক ও কমান্ড অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।”
বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা কেবল একটি বাহিনীর সদস্য নন—আপনারা জাতীয় পতাকার মর্যাদার রক্ষক এবং সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি। আপনারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নন; দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আপনাদের একমাত্র পরিচয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং সরাসরি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল মনিটরিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিভ্রান্তি রুখতে বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও সক্ষম। ভোট কেন্দ্রে নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বা শৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
এছাড়াও তিনি নির্বাচনী নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচার করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মনে করে, প্রতিটি সদস্যের সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপরই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রস্তুতি শুধু একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে না, বরং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
মহাপরিচালক দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬-এ আনসার ও ভিডিপির এই আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক, টেকসই ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
এসআর