বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের পদত্যাগের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা। বিকাল ৪ থেকে টানা সড়ক অবরোধ করে রাখায় থানার দুই পাশে দুরপাল্লার অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে।
এর আগে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় রোববার দুপুরে জামায়াতের নির্বাচনী মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলায় নারীসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে ওসির অপসারনের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে রাখেন জামায়াত কর্মীরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী বাউফল শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টার ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার ভোটের প্রচারে বের হলে জামায়াত কর্মীরা থানার সামনে তার গাড়ি আটকে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় আধাঘন্টা পর তার গাড়ি ছেড়ে দেয় জামায়াত কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পৌর শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে চন্দ্রদ্বীপের চরওয়াডেল বাজার থেকে দাঁড়িপাল্লার শতাধিক সমর্থক একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভান্ডারি বাজার অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে ধানের শীষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা শুরু করে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে জামায়াতের ৫ জন ও বিএনপির ১ জনকে উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবী করেন, মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় ঘটনার দিন দুপুরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মিছিল করছিল জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এসময় বিএনপি নেতা মুনির হোসেন ও তার ছোট ভাই তাহেরের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন ধানের শীষের কর্মী সমর্থক দেশী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ হামলায় জামায়াতের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের সেক্রেটারী আমিনুল ইসলামসহ ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার খবর শুনে আমিনুল ইসলামের স্ত্রী সাহেদা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন মূল ভূখন্ড থেকে থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আহতদের অনেকেই শহরে এসে চিকিৎসা নিতে পারেননি।
চন্দ্রদ্বীপে জামায়াতের মিছিলে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ধানের শীষের কর্মী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভান্ডারিয়া বাজারে তারা ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এসময় জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা তাদের উপর হামলা চালায়। এ হামলায় তিনিসহ তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন।
হামলা পরবর্তী ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ বর্তমানে আতংকের মধ্যে কাটাচ্ছেন। তারা চন্দ্রদ্বীপে নির্বাচনকালীন আর্মি ক্যাম্প স্থাপনের দাবি করেছেন।
এ বিষয় বক্তব্য নিতে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক তসলিম তালুকদারকে তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
তবে এঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধারণ করার আহবান জানিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার।
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আরএস/এসআর