মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান।
এদিকে শনিবার দুপুরে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি গ্রামে দু’দফা হামলায় শতশত ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক মুন্সিকান্দি গ্রামের মনির হোসেন সরকার ( ৬০), লিজন (২০) ও ফাহিম (২১)কে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
আহত ফাহিম জানান, মুন্সিকান্দি গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্পে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকেরা ককটেল হামলা চালায়। এসময় বিস্ফোরিত ককটেলের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মহেশপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক জাহাঙ্গীর সরকার, ইউসুফ ফকির, পুর্ব মাকহাটির খায়রুদ্দিন মোল্লা, নাহিদ সিকদার ও বেহেরকান্দির রতন বেপারী, মুরাদ ও আরিফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক বিএনপি নেতা উজির আলীর মুন্সিকান্দি গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের নির্বাচনী ক্যাম্পেও হামলা চালায়। এ সময় ককটেল নিক্ষেপে বিস্ফোরিত হয়ে মনির হোসেন সরকার লিজন ও ফাহিম গুরুতর জখম হন। পরে দুইপক্ষের মধ্যে শতশত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এদিকে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের দাবি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান মল্লিকের লোকজন মুন্সিকান্দি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে ধানের শীষের সমর্থক মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ উজির আলী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ মোল্লার লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
এ ব্যাপারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক বিএনপি নেতা আওলাদ মোল্লা জানান, আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর সরকার ও ইউসুফ ফকিরের নেতৃত্বে মোল্লাকান্দিতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের শতশত নেতাকর্মী সমর্থককে গ্রামছাড়া করে দিয়েছে।
ওদিকে লিখিত অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দপুর গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মিছিল চলাকালে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আনন্দপুর গ্রামের নুরুল মোল্লা (পিতা: মৃত হাফেজ মোল্লা) এর নেতৃত্বে ভূট্টো গাজী (পিতা: নুরা গাজী), আহম্মদ মোল্লা (পিতা: আমির হোসেন মোল্লা), মাছুদ দেওয়ান (পিতা: খোরশেদ দেওয়ান), আপন দেওয়ান (পিতা: স্বপন দেওয়ান), রতন বেপারী (পিতা: হাবিব উল্লাহ বেপারী), মুরাদ বেপারী (পিতা: রতন বেপারী), আরিফ সরকার (পিতা: নুরি সরকার)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি এ হামলায় জড়িত ছিলেন।
হামলায় মুনসুর নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এদের পূর্ব বিরোধ ছিল। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই আবার এরা এলাকায় সক্রিয় হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এমএইচএস/এসআর