ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
আমতলীতে কুল চাষ করে বেকার যুবকের ভাগ্য বদল
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
X

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের বাইনবুনিয়া গ্রামে নিজের সাড়ে ৫ একর জমিতে কাশ্মিরী, আপেল কুল, বলসুন্দরী ও ভরতসুন্দরী নামে চার প্রজাতির ১ হাজার ৫শ’ গাছে কুল চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন আবু বকর সিদ্দিক রাসেল।

চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন। তার বাগানে এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে; এমনকি এলাকার বাইরে থেকে আগত লোকরাও বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। রাসেলের এ সাফল্য দেখে অন্য বেকার যুবকরাও কুল চাষে ঝুঁকছেন।

ঢাকার সরকারী বাংলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স এবং বেসরকারী প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করা রাসেল আগে একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকরি করতেন। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন। বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে কৃষি ক্ষেত্রে কিছু করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ও উৎসাহে তিনি কৃষিকাজে নামেন।

যদিও নিজের পর্যাপ্ত জমি ছিল না, তাই ২ একর ১৭ শতাংশ জমি বার্ষিক চুক্তিতে ইজারা নিয়ে সেটি উঁচুকরে কুল চাষ শুরু করেন। ২০২১ সালের শুরুতে কুষ্টিয়ার মেহেরপুর এলাকার একটি বাগান থেকে কাশ্মিরী, আপেল কুল, বল সুন্দরী ও ভরত সুন্দরী প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করে রোপণ করেন। সঠিক পরিচর্যার কারণে গাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠে এবং এবছর ফল ধরেছে।

২০১২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার গড়ে আয়ের পরিমাণ প্রতিবছর ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে তার বাগানের পরিধি সাড়ে ৫ একরে উন্নীত হয়েছে এবং সেখানে ১৫শ’ কুল গাছে ফল ঝুলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাসেলের বাগান কুল ফলে ভরা। লাল, সাদা ও মেরুন রঙের কুলে ভরা গাছগুলোতে কর্মচারীরা ঝুড়ি ভর্তি করে বিক্রির জন্য পাকা কুল ছেঁড়ে নিচ্ছেন। পাখির আক্রমণ থেকে বাগান রক্ষার জন্য জাল টানানো হয়েছে।

রাসেল বলেন, “আমার বাগানের কুল সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। গাছে ফুল আসার পর প্রথমবার নিমপাতা থেকে উৎপাদিত জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করেছি; আর কোন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। এজন্য বাগানের কুলের চাহিদা অনেক বেশি। পাইকারিরা আমাদের বাগান থেকে সরাসরি বড়ই কিনে নিয়ে যান। বরিশাল, পটুয়াখালী ও আমতলী থেকে পাইকারিরা ফল কেনার জন্য ভিড় করছেন। প্রতিদিন ৫–৮ মন কুল সরবরাহ করছি। এবছর কমপক্ষে ৩৫ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছি।”

আমতলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, “আবু বকর সিদ্দিক রাসেল আগে বেকার ছিলেন। আমাদের পরামর্শে কুলবাগান তৈরি করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার না হওয়ায় ফলের আকার ও স্বাদ ভালো হয়েছে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। সুষ্ঠু পরিকল্পনায় এ ধরনের কুল চাষ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং চাষিদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টিকর ফল সরবরাহ ও দারিদ্র্য বিমোচনে বড় অবদান রাখবে।”

এএসকে/ এসআর



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝