ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সেমড়া, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সোনাই নদীতে বাঁধ দিয়ে দেদারসে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চললেও দেখার যেন কেউ নেই।
সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেমড়া গ্রামের পূর্ব পাশে একটি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৪-১৫ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি কাটা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কেনা গ্রামের স্বপন নামের এক ব্যক্তি মাটি কেটে বিক্রি করে প্রায় এক ডজন ফসলি নাল শ্রেণির জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভরাট করছেন।
গর্তের আশপাশে দাঁড়িয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশ করলে এসব জমি ভেঙে গর্তে ধসে পড়বে। অর্থ ও পেশিশক্তির ভয়ে তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে একজন এলাকাবাসী জানান, পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা নিরীহ ও অসহায় বলেই এভাবে খাড়া করে মাটি কাটা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে জমির অর্ধেক এই গর্তে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেশিশক্তির কাছে তারা কার্যত নিরব দর্শকের ভূমিকায়।
এদিকে, বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পশ্চিম পাশে সোনাই নদীর তীরবর্তী অংশে নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে গত দুই মাস ধরে পশ্চিম পাড় থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইসঙ্গে আলিনগর ও গাছতলা গ্রামের মধ্যবর্তী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মাটির বিশাল পাহাড় গড়ে সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে ফোন করে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে- অনেকের মনে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে, প্রশাসন কোনো বিনিময়ের মাধ্যমে নীরব রয়েছে কি না?
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)'র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিবুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এসআর/এমএ