টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নিখোঁজের ছয় দিন পর ৭ বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুটি মারিয়া (৭), সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
নিহত শিশুর বড় ভাই জুবায়ের হোসেন জানান, গত ২৬ জানুয়ারি মারিয়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে এলাকায় মাইকিংসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সন্দেহের ভিত্তিতে পাশের বংশাই নদীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একদিন উদ্ধার অভিযান চালালেও ফল পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মারিয়ার বাবা উজ্জল হোসেন গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ধনবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
রোববার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় মুসল্লিরা রাস্তার পাশে মৃত নান্নু মিয়ার পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে খোঁজ নিয়ে একটি স্টিলের বাক্সে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় ময়েন উদ্দিনের ছেলে সুমন (২৫) ও আবদুর রহিমের ছেলে রাফিউল (১৬)–কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
নিহত শিশুর পরিবার ও স্বজনরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম এবং ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক।
সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজের ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এইচআর/এসআর