গোপালগঞ্জ-০২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপের কারণে বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা চাপে পড়েছেন। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই আসনটি গঠিত গোপালগঞ্জ সদরের ২১টি এবং কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে। বিগত নির্বাচনে এই আসন থেকে ৯বারের সংসদ সদস্য ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এখানকার ভোটারদের প্রায় ৯০ ভাগ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। তাই ভোটের হিসাব করা এখানে সহজ নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করায়, গোপালগঞ্জ-০২ আসনের ভোট ব্যাংকটি খালি পেয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হানা দিতে মরিয়া। সেই সুযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অনেকটা এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।
গোপালগঞ্জ-০২ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির দুই বিদ্রোহী ও সদ্য বহিস্কৃত নেতা, মোট ৬ জন। বাকি ৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে এম. এইচ. খান মঞ্জু সাবেক জেলা চেয়ারম্যান ও এমপি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। অপর প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম তার নিজস্ব গোষ্ঠীর অন্তত ২৫ হাজার রিজার্ভ ভোটে আস্থা রাখছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সদ্য বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুলও এখানে জনপ্রিয়। অন্যদিকে, সনাতন হিন্দু ভোটারদের ভোট টানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন অ্যাডভোকেট উৎপল বিশ্বাস।
এই আসনের ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবেন কিনা বা ভোট দেবেন কিনা, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার সম্ভাবনা নিয়েও দ্বিমত পোষণ করছেন।
সব প্রার্থীর আশা, দীর্ঘদিন জনগণের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখ দেখার কারণে, ভোটাররা তাদের প্রতি আস্থা রাখবেন। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এবং নির্বাচন না করার কারণে, তাদের ভোট পেতে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা সুযোগ পেতে পারেন।
গোপালগঞ্জ-০২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮৪,৩২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯৪,০৬২ জন, নারী ভোটার ১,৯০,২৫৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।
এমএইচ/আরএন