শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শেরপুর–১ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর–২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, “শহীদ রেজাউলের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। আমাদের ন্যায্য আন্দোলনে কেউ বাধা দিলে আমরা প্রাচীরের মতো দাঁড়াবো। প্রয়োজনে শত শত রেজাউলের মতো রক্ত দিতে আমরা প্রস্তুত।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, রেজাউল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাঁরা অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে কোনো কর্মসূচিতে প্রশাসন যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে শেরপুরে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুর–৩ আসনের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম নিহত হন।
এমএস/আরএন