আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে সরকারি প্রচার নিয়ে বির্তক চলাকালীন এমন নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টারা এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও প্রচারে অংশ নিচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সহকারীরা দেশে দেশে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানাতে পারবেন না। তবে তারা জনগণকে গণভোট বিষয়ে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে: “গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট সম্পর্কে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি জনগণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে পারবেন না। কারণ এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে, যা উক্ত অধ্যাদেশ ও আদেশ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।”
প্রসঙ্গত, গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা আছে: “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, এবং এসব ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কেউ সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তিনি সর্বনিম্ন এক বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী হবেন।
আরএন