জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে (আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় জোট। পরে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলম এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের জরুরি বৈঠকের পর আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থান দেখা যায়।
পরে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি তুলে ধরে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলি, অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ এবং পূর্ববর্তী তিন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদান।
এ সময় সারজিস আলম বলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন সরাতে হবে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করতে হবে। বিগত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মাদরাসা শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে হবে, তবে রাজনৈতিক পদধারীদের বাদ রাখতে হবে। প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছে। দাবি মানা না হলে আমরা আবার ভোটের মাঠ থেকে রাজপথে নামব।”
তিনি আরও বলেন, “যারা জোর-জবরদস্তি ও পেশিশক্তির প্রদর্শন করতে চায়, তারা মনে রাখুক—এটা আর ২৪-এর আগের বাংলাদেশ নয়। এটা অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ। কোনো অন্যায়-অনিয়ম হলে আর শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিহত করা হবে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার দিন শেষ। একটি ধমকি দিলে এখন দশটি ভোট কমে যাবে।”
সারজিস আলম বলেন, “আন্দোলনকারীদের বয়স কম হতে পারে, কিন্তু এরাই সেই ছাত্র-জনতা, যারা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছে। যারা সবাই মিলে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে পারেনি, এই তরুণরাই তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়, তাহলে অতীতে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কী পরিণতি হয়েছিল, সেই চিত্র দেয়ালে টানিয়ে রাখা উচিত।”
এর আগে বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমিরের পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। এতে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তারা।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন বলেন, “জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. কাজী সায়েমুজ্জামানের সঙ্গে আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমরা তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছি। আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দাবি মানা না হলে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, “বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি মেনে চলবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ১১ দলীয় জোটের উত্থাপিত দাবিগুলো নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।”
এসআই/আরএন