ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ দেড় হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভালুকা মডেল থানায় দায়ের করা এসব মামলায় ১৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে আতিকুল ইসলাম ও আমান উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশে তার কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়। এ সময় তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৬-৭ জন কর্মীকে আহত করে এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
এরপর সন্ধ্যার দিকে সিডস্টোর বাজারে যুবদল নেতা শামীম আহমেদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে তিনজন কর্মী আহত হন এবং ৭-৮টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ২১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৯০০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ ও রফিক উদ্দিন রফিক বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দুটি (নম্বর–৩১ ও ৩২) দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠে আসছে। গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) পৌর সদর, কানার মার্কেট, বাটাজোড় বাজার ও হবিরবাড়ি এলাকায় একাধিক দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা রুজু হয়েছে। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার এক আসামি নাজিম মেম্বারকে স্থানীয়রা আটক করে থানায় সোপর্দ করে। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এএস/আরএন