পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বিচার বিভাগ, খুলনার কর্মচারীদের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর শেখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম, খান আনিসুজ্জামান, আজিজুর রহমান, আকরাম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, সার্ভেয়ার মোকলেছুর রহমান, বিচার বিভাগ খুলনা কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাকসুদ রহমান, জেলা জজ কোর্টের নাজির মোহাম্মদ জাকারিয়া, বেঞ্চ সহকারী আবু সাঈদসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও জজ কোর্টের বিভিন্ন শাখার কর্মচারীরা।
বক্তারা বলেন, নবম পে স্কেল নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা আজ দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ পালন করছি। আগামীকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শেষে যে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল ঘোষণা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কর্মচারীদের অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন করে আসছি। এর প্রেক্ষিতে সরকার নবম পে কমিশন গঠন করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বর্তমানে সরকারের হাতে রয়েছে। বাজেট পুনর্বিন্যাস করে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান করা হলেও এখনও গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।
এই পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের অসহায়ত্ব নিয়ে রসিকতার শামিল বলে আমরা মনে করি। বিগত ১১ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার কর্মচারীদের পে স্কেল থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। পে স্কেল প্রাপ্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য তুষের আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কর্মচারীরা ক্ষুধার তাড়নায় রাস্তায় নামলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ওই অবিবেচনাপ্রসূত, হঠকারী, অগ্রহণযোগ্য ও তামাশামূলক বক্তব্য প্রত্যাহার এবং বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কেডিএ ঘোষ রোড, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনের সড়ক হয়ে কোর্ট মোড়, জজ কোর্টের প্রধান ফটক ও জজ কোর্ট সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিএম কোর্ট হয়ে পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে মিছিল শেষ করেন।
এসএস/আরএন